বৃহঃস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬, ৩১ বৈশাখ ১৪৩৩
ছবি : সংগৃহীত
পবিত্র ঈদুল আজহায় কোরবানির পশুর কাঁচা চামড়া সংগ্রহ, সংরক্ষণ, ক্রয়-বিক্রয় ও পরিবহন ব্যবস্থাপনা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে সরকার সর্বাত্মক প্রস্তুতি নিয়েছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী।
বৃহস্পতিবার (১৪ মে) সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে বিভাগীয় কমিশনার, সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ও জেলা প্রশাসকদের সঙ্গে ভার্চুয়ালি অনুষ্ঠিত দিকনির্দেশনামূলক সভায় বাণিজ্যমন্ত্রী এসব বলেন।
মন্ত্রী বলেন, ‘কোরবানির একটি চামড়াও যেন নষ্ট না হয়—এ বিষয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী গুরুত্বারোপ করেছেন। আমরা এটিকে একটি জাতীয় দায়িত্ব ও চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছি।’ তিনি বলেন, কোরবানির চামড়া দেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় সম্পদ। যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা গেলে দেশের চামড়া শিল্প, রফতানি আয় এবং এতিমখানা, মাদ্রাসা ও লিল্লাহ বোর্ডিংগুলোর আর্থিক সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে। তবে সামান্য অসচেতনতার কারণে প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ চামড়া নষ্ট হয়। এ পরিস্থিতি রোধে এবার ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, ঈদের আগে বাকি দুই জুমায় দেশের সব মসজিদে খতিব ও ইমামদের খুতবা ও বক্তব্যে চামড়া সংরক্ষণের গুরুত্ব এবং সঠিক পদ্ধতিতে চামড়া ছাড়ানোর বিষয়টি তুলে ধরতে হবে। পাশাপাশি জেলা প্রশাসকদের তত্ত্বাবধানে মাদ্রাসা, এতিমখানা, লিল্লাহ বোর্ডিং ও সংশ্লিষ্টদের জন্য যে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে, তা যেন সফল হয় সেদিকে নজর রাখতে বিভাগীয় কমিশনারদের আহ্বান জানান তিনি।
সভায় বিভাগীয় কমিশনারদের বিশেষ মনিটরিং টিম গঠন এবং জেলা প্রশাসকদের প্রশিক্ষণ-পরবর্তী মাঠপর্যায়ে সক্রিয় তদারকির নির্দেশ দেওয়া হয়। সিটি কর্পোরেশন প্রশাসকদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, কোরবানির বর্জ্য ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি চামড়া সংরক্ষণ কার্যক্রমও সমন্বিতভাবে পর্যবেক্ষণ করতে হবে।
সভায় জানানো হয়, কাঁচা চামড়ার গুণগত মান রক্ষায় সরকার ইতোমধ্যে দেশব্যাপী মাদরাসা, এতিমখানা ও লিল্লাহ বোর্ডিংয়ে বিনামূল্যে লবণ সরবরাহের জন্য ১৭ কোটির বেশি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে। এছাড়া উপজেলা পর্যায়ে ৫০ হাজার টাকা এবং জেলা পর্যায়ে ৭৫ হাজার টাকা করে মোট ২ কোটি ৬৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
চামড়া সংরক্ষণে সচেতনতা বাড়াতে ৩ লাখ পোস্টার ও ৮ লাখ লিফলেট বিতরণ করা হবে। পাশাপাশি টেলিভিশন, রেডিও, জাতীয় পত্রিকা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও মোবাইল এসএমএসের মাধ্যমে প্রচারণা চালানো হবে। ঈদের তিন দিন আগে থেকে বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেলে সচেতনতামূলক তথ্যচিত্রও প্রচার করা হবে।
সভায় গৃহীত সিদ্ধান্তগুলোর মধ্যে রয়েছে, কোরবানির দুই থেকে চার ঘণ্টার মধ্যে চামড়ায় সঠিকভাবে লবণ প্রয়োগ, প্রতি গরুর চামড়ায় ৮ থেকে ১০ কেজি এবং প্রতি ছাগলের চামড়ায় ৩ থেকে ৪ কেজি লবণ ব্যবহার, বায়ু চলাচলসমৃদ্ধ স্থানে চামড়া সংরক্ষণ এবং স্থানীয় পর্যায়ে ৭ থেকে ১০ দিন পর্যন্ত চামড়া সংরক্ষণে উৎসাহ প্রদান।
এছাড়া পশুর হাটে পর্যাপ্ত লবণ সরবরাহ নিশ্চিত করা, অপপ্রচার ও চামড়া বিনষ্টকারী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ, সড়ক ও মহাসড়কের পাশে পশুর হাট না বসানো এবং কোরবানির বর্জ্যের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সভা পরিচালনা করেন। এতে বিভাগীয় কমিশনার, সিটি কর্পোরেশন প্রশাসক ও জেলা প্রশাসকরা নিজ নিজ এলাকার পরিকল্পনা ও মতামত তুলে ধরেন।
সভা শেষে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, “সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় পরিকল্পনাগুলো যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করতে পারলে ইনশাআল্লাহ এ বছর একটি চামড়াও নষ্ট হবে না এবং দেশের এই মূল্যবান সম্পদ সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে।”