বৃহঃস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬, ৩১ বৈশাখ ১৪৩৩
ছবি : সংগৃহীত
ফিলিস্তিনি বন্দিদের ওপর পরিকল্পিত যৌন নির্যাতন ও ধর্ষণের অভিযোগের বিষয়ে একটি নিবন্ধ প্রকাশের জেরে মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের বিরুদ্ধে মামলা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইসরায়েল। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিডিওন সার এক যৌথ বিবৃতিতে এই পদক্ষেপ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।
কলামিস্ট নিকোলাস ক্রিস্টফের লেখা ওই নিবন্ধকে ইসরায়েলের সরকার ‘‘আধুনিক সংবাদমাধ্যমে ইসরায়েল রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে প্রকাশিত এ যাবৎকালের সবচেয়ে জঘন্য ও বিকৃত মিথ্যাগুলোর একটি’’ বলে অভিহিত করেছে।
নিবন্ধে ক্রিস্টফ অভিযোগ করে বলেন, ইসরায়েলি সেনাবাহিনী, বসতি স্থাপনকারী, অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা সংস্থা শিন বেটের জিজ্ঞাসাবাদকারী এবং সর্বোপরি কারারক্ষীদের মাধ্যমে ফিলিস্তিনি পুরুষ, নারী এমনকি শিশুদের ওপরও পদ্ধতিগতভাবে ব্যাপক যৌন সহিংসতা চালানো হয়েছে।
নিউইয়র্ক টাইমসের ওই নিবন্ধে ইসরায়েলের ‘সদে তেমান’ আটক কেন্দ্রে ফিলিস্তিনিদের নির্যাতনের ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরা হয়। সেখানে একজন বন্দিকে গণধর্ষণের অভিযোগে কয়েকজন ইসরায়েলি সৈন্যকে আটকের ঘটনার কথা উল্লেখ করে ক্রিস্টফ বলেন, এটি কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; বরং ইসরায়েলি বন্দিশালায় এটি নিয়মিত চর্চায় পরিণত হয়েছে।
ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, হামাস গত ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামলার সময় যে পদ্ধতিগত যৌন সহিংসতা চালিয়েছিল—সে সংক্রান্ত ইসরায়েলের একটি স্বাধীন তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশের ঠিক আগেই নিউইয়র্ক টাইমস উদ্দেশ্যমূলকভাবে ক্রিস্টফের নিবন্ধটি প্রকাশ করেছে।
‘‘ইসরায়েলি ওই প্রতিবেদন নিয়ে কয়েক মাস আগেই সংবাদমাধ্যমটির সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছিল। কিন্তু তারা সেটি গুরুত্ব না দিয়ে উল্টো ইসরায়েলকে হেয় করতে এই নিবন্ধ প্রকাশ করেছে।’’
নিকোলাস ক্রিস্টফ বলেছেন, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোও দীর্ঘদিন ধরে ইসরায়েলি কারাগারে ফিলিস্তিনিদের ওপর চলা নির্যাতনের বিষয়ে উদ্বেগ জানিয়ে আসছে। তবে ইসরায়েল সরকার শুরু থেকেই এসব অভিযোগ অস্বীকার করে একে ভিত্তিহীন প্রচারণা বলে দাবি করেছে।
সূত্র: এএফপি, টাইমস অব ইসরায়েল।