বৃহঃস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ৮ শ্রাবণ ১৪৩৩


পেঁয়াজ সংরক্ষণে আরও ১৫ হাজার এয়ার ফ্লো মেশিন দেওয়া হবে : কৃষিমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত:২৩ জুলাই ২০২৬, ১৮:৫৬

ছবি ‍: সংগৃহীত

ছবি ‍: সংগৃহীত

দেশে পেঁয়াজ উৎপাদন চাহিদার তুলনায় বেশি হলেও পর্যাপ্ত সংরক্ষণ সুবিধার অভাবে প্রতিবছর উল্লেখযোগ্য পরিমাণ পেঁয়াজ আমদানি করতে হচ্ছে। এই পরিস্থিতি পরিবর্তনে কৃষক পর্যায়ে নতুন করে আরও ১৫ হাজার এয়ার ফ্লো মেশিন বিতরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন কৃষি এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। তিনি বলেছেন, সংরক্ষণ সক্ষমতা বাড়ানো গেলে পেঁয়াজ আমদানি শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনার পাশাপাশি ভবিষ্যতে রফতানির পথও উন্মুক্ত হবে।

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) রাজধানীর ফার্মগেটে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল (বিএআরসি) মিলনায়তনে ‘বাংলাদেশের পেঁয়াজ উৎপাদন এলাকায় পরিবর্তিত জলবায়ুর প্রতিকূল প্রভাব প্রশমনে অংশীদারত্বের ভিত্তিতে কৃষক পর্যায়ে পেঁয়াজ সংরক্ষণের অভিযোজন প্রকল্প’-এর জাতীয় কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের মহাপরিচালক মো. আব্দুর রহিমের সভাপতিত্বে কর্মশালায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কৃষি সচিব ড. মো. রফিকুল ই মোহামেদ। অনুষ্ঠানে প্রকল্পের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন প্রকল্প পরিচালক ড. মো. মাহফুজুর রহমান।

কৃষিমন্ত্রী বলেন, দেশে পেঁয়াজের উৎপাদন চাহিদার তুলনায় বেশি হলেও আধুনিক সংরক্ষণ ব্যবস্থার অভাবে প্রতিবছর উল্লেখযোগ্য পরিমাণ পেঁয়াজ নষ্ট হয়ে যায়। ফলে উৎপাদন বেশি হওয়ার পরও বিদেশ থেকে পেঁয়াজ আমদানি করতে হয়। এই সমস্যা সমাধানে সরকার সংরক্ষণ সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে।

তিনি আরও বলেন, কৃষক পর্যায়ে আরও ১৫ হাজার এয়ার ফ্লো মেশিন সরবরাহ করা হবে। এর মাধ্যমে পেঁয়াজের সংগ্রহোত্তর ক্ষতি কমবে, কৃষক ন্যায্যমূল্য পাবেন এবং আমদানির ওপর নির্ভরশীলতা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে। ভবিষ্যতে উৎপাদন আরও বৃদ্ধি করে বাংলাদেশ থেকে পেঁয়াজ রফতানিরও সুযোগ তৈরি হবে।

মন্ত্রী বলেন, দেশের বাইরে প্রায় এক কোটি বাংলাদেশি বসবাস করেন এবং তারা দেশীয় পেঁয়াজের স্বাদ ও গুণগত মানকে গুরুত্ব দেন। বিশ্বের অনেক দেশের পেঁয়াজের তুলনায় বাংলাদেশের পেঁয়াজের স্বাদ ও বৈশিষ্ট্য আলাদা। তাই দেশীয় পেঁয়াজের উৎপাদন ও সংরক্ষণ বাড়িয়ে আন্তর্জাতিক বাজারেও এর সম্ভাবনা কাজে লাগাতে হবে।

কর্মশালায় জানানো হয়, কৃষি মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট ফান্ডের অর্থায়নে পেঁয়াজ সংরক্ষণের অভিযোজন প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে। ২০২৫ সালের মে মাসে শুরু হওয়া প্রকল্পটি ২০২৭ সালের এপ্রিল পর্যন্ত চলবে। প্রকল্পটির মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১১ কোটি ৭৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা।

প্রকল্পটি পাবনা, ফরিদপুর, রাজবাড়ী, রাজশাহী, কুষ্টিয়া, মাগুরা, ঝিনাইদহ, মানিকগঞ্জ, নাটোর, নওগাঁ, মেহেরপুর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, মাদারীপুর, শরীয়তপুর, রংপুর ও বগুড়াসহ ১৬ জেলার ১০৭টি উপজেলায় বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

প্রকল্পের আওতায় পেঁয়াজের সংগ্রহোত্তর পচন কমাতে ৩ হাজার ৭০০টি পরিবেশবান্ধব এয়ার ফ্লো মেশিন স্থাপন করা হচ্ছে। এ ছাড়া ৩ হাজার ৯০০ জন কৃষককে আধুনিক সংরক্ষণ প্রযুক্তি বিষয়ে কারিগরি প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ পেঁয়াজ পচনের হাত থেকে রক্ষা পাবে, কৃষকের আর্থিক ক্ষতি কমবে এবং দেশের বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হবে।

সম্পর্কিত বিষয়:

আরো পড়ুন

সর্বশেষ

জনপ্রিয়

নামাজের সময়সূচি

ওয়াক্ত সময়সূচি
ফজর ৩:৫৮ - ৫:১৮ ভোর
যোহর ১২:০৫ - ৪:৩৪ দুপুর
আছর ৪:৪৪ - ৬:৪১ বিকেল
মাগরিব ৬:৪৬ - ৮:০৬ সন্ধ্যা
এশা ৮:১১ - ৩:৫৩ রাত

বৃহঃস্পতিবার ২৩ জুলাই ২০২৬