বৃহঃস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬, ১১ আষাঢ় ১৪৩৩
ছবি : সংগৃহীত
দীর্ঘ সময় পর আবারও চালু হচ্ছে ভিটামিন এ ক্যাম্পেইন। ৬ মাস ৫৯ মাস বয়সী শিশুদেরকে মিটামিন এ খাওয়ানো হবে। এমতাবস্থায় ভিটামিন এ ক্যাম্পেইন পরিচালনার পর সারাদেশে শিশুর মৃত্যুর হার কমে যাবে বলে মন্তব্য করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ড. এমএ মুহিত।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সকালে সচিবালয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন তিনি।
প্রতিমন্ত্রী ড. এমএ মুহিত বলেন, ভিটামিন এ মানব শরীরের জন্য একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অনুপুষ্টি হিসেবে কাজ করে। এটি শুধু রাতকানা রোগই প্রতিরোধ করে না বরং শিশুর শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। জেরোফথ্যালমিয়া, দীর্ঘমেয়াদী ডায়রিয়া, হাম ও অন্যান্য সংক্রামক রোগ থেকে সুরক্ষা দেয়।
তিনি বলেন, মিটামিন ‘এ’ এর অভাবে কোনো শিশু যেন প্রতিবন্ধী না হয় এবং শিশু মৃত্যু না হয়। শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে এবং মৃত্যুর হার কম থাকে, এই লক্ষ্যে আমরা কাজ করছি।
ভিটামিন এ ক্যাম্পেইনের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত বলেন, শিশুদের অন্ধত্ব ও পুষ্টিহীনতা দূর করতে ১৯৭৩ সাল থেকে দেশে ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়নো শুরু হয়। এটি তখন ‘জাতীয় রাতকানা রোগ প্রতিরোধ কার্যক্রম’ নামে পরিচিত ছিলো। ১৯৯৫ সাল থেকে কার্যক্রমটিকে আরও শক্তিশালী করার জন্য জাতীয় টিকাদান কর্মসূচির সাথে ভিটামিন এ কে সংযুক্ত করা হয়।
তিনি আরও বলেন, পরবর্তীতে বিএনপির সরকার এসে ২০০৩ সাল থেকে এটিকে আলাদা একটি কর্মসূচি হিসেবে গ্রহণ করা হয় যার নাম দেওয়া হয় জাতীয় ভিটামিন এ প্লাস ক্যাম্পেইন, যা জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠানের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হতো। ২০১১ সাল থেকে স্বাস্থ্য অধিদফতরের জাতীয় পুষ্টিসেবা বা এনএনএস অপারেশন প্ল্যানের অধীনে ২০২৫ সালের মার্চ মাস পর্যন্ত পরিচালিত হয়ে আসছিলো। অপারেশন প্ল্যান বিলুপ্ত হওয়ায় ২০২৬ সাল থেকে এটি জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম হিসেবে পুনরায় চালু হয়।
ড. এমএ মুহিত জানান, আগামী ২৮ জুন ক্যাম্পেইনে ৬ মাস থেকে ১১ মাস বয়সী দুই কোটি চল্লিশ লক্ষ ছত্রিশ হাজার বাইশ জন শিশুকে ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে। ফিক্সড আউট বিচ কেন্দ্র থাকবে ১ লক্ষ ১০ হাজার। এছাড়া লঞ্চঘাট, ফেরীঘাট, ট্রেইনট্রেশন, বাসষ্টেশন ইত্যাদিতে মোবাইল কেন্দ্র থাকবে ৫০০টি।
তিনি জানান, দুর্গম অঞ্চলে ১২ টি জেলার ৫৮ টি উপজেলার ১৯০ টি ইউনিয়নের ৭১৪ টি ওয়ার্ডে ক্যাম্পেইন পরবর্তী ৪ দিন চাইল্ড টু চাইল্ড সার্চিং কার্যক্রম চালানোর মাধ্যমে শিশুদেরকে ভিটামিন এ খাওয়া হবে। আমাদের লক্ষ্য কোনো শিশুকে বাদ রাখা হবে না। দেশের প্রতিটি শিশুকে ভিটামিন এ খাওয়ানে হবে।