বৃহঃস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২৬, ২৫ আষাঢ় ১৪৩৩


কোয়ার্টারে উঠেই সেমিফাইনালের প্রস্তুতি শুরু আর্জেন্টিনার!

খেলা ডেস্ক

প্রকাশিত:৯ জুলাই ২০২৬, ১৬:৫৮

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

মিশরের বিপক্ষে অবিশ্বাস্য জয়ে কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করেছে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। আগামী রোববার শেষ আটের লড়াইয়ে সুইজারল্যান্ডের মুখোমুখি হবে লিওনেল স্কালোনির দল।

অন্যদিকে, শেষ আটে জায়গা নিশ্চিত করেছে ইংল্যান্ডও। তারা মুখোমুখি হবে ব্রাজিলকে হারানো নরওয়ের। এই দুই ম্যাচের জয়ী দল সেমিফাইনালে মুখোমুখি লড়াইয়ে নামবে।

আর্জেন্টিনা এরই মধ্যে হয়তো ইংল্যান্ডকে সম্ভাব্য শেষ চারের প্রতিপক্ষ ভাবা শুরু করে দিয়েছে। মিশরের বিপক্ষে জয়ের পর আর্জেন্টিনার ড্রেসিংরুমে ঘুরেফিরে এসেছিল ইংল্যান্ড প্রসঙ্গ। ওই দিনের উদযাপনের একটি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে। আটলান্টায় ৩-২ ব্যবধানের সেই নাটকীয় জয়ের পর আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়দের ড্রেসিংরুমে এমন একটি গান গাইতে শোনা গেছে, যার সঙ্গে জড়িয়ে আছে ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের (আর্জেন্টাইনদের কাছে যা ‘মালভিনাস’ নামে পরিচিত) রাজনৈতিক ইতিহাস।

আর এই গানকে কেন্দ্র করেই আলবিসেলেস্তে সমর্থকরা ইতোমধ্যে সেমিফাইনালে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হওয়ার স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছেন। মিশরের বিপক্ষে শেষ ষোলোর ম্যাচে ২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে ছিল বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। ম্যাচের ৭৯তম মিনিটে ক্রিস্টিয়ান রোমেরোর গোল আলবিসেলেস্তাদের ম্যাচে ফেরায়। এর ঠিক ৪ মিনিট পর অধিনায়ক লিওনেল মেসি গোল করে সমতা আনেন। শেষ পর্যন্ত ইনজুরি টাইমে এঞ্জো ফার্নান্দেজের দুর্দান্ত হেডে ৩-২ ব্যবধানের জয় নিশ্চিত করে কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করে আর্জেন্টিনা।

ম্যাচ শেষে আর্জেন্টিনার ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও শেয়ার করে। ক্যাপশনে যা লেখা ছিল তার বাংলা ভাবার্থ অনেকটা এমন, ‘ভালো করে মুখস্থ করে নাও, এভাবেই গান গায় লা স্ক্যালোনেতা।’

ভিডিওতে দেখা যায়, খেলোয়াড়রা ড্রেসিংরুমে মেতে উঠেছেন তাদের বিখ্যাত ফ্যান-অ্যান্থেম ‘মুচাচোস’ গানটি গেয়ে। ২০০৩ সালে আর্জেন্টিনার স্কা ব্যান্ড ‘লা মোস্কা’র হিট গান ‘মুচাচোস, এস্তা নোচে মে এমবোরাচো’ (ছেলেরা, আজ রাতে আমি মাতাল হবো)-এর সুর ঠিক রেখে ফার্নান্দো রোমেরো এর লিরিক্স নতুনভাবে সাজিয়েছিলেন। ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে এই গানটি ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়, যা ২০২৬ বিশ্বকাপের জন্য কিছুটা পরিমার্জন করা হয়েছে। গানটির শুরুতেই ছিল, "আমি আর্জেন্টিনায় জন্মেছি, ডিয়েগো আর লিওনেলের দেশে, এবং মালভিনাসের সেই ছেলেদের দেশে যাদের আমি কখনো ভুলব না।"

উল্লেখ্য, ‘মালভিনাস’ হলো ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের আর্জেন্টাইন নাম। ১৯৮২ সালের ফকল্যান্ড যুদ্ধ এই দুই দেশের মধ্যকার সম্পর্ককে চরম তিক্ততায় রূপ দেয়। দক্ষিণ আটলান্টিক মহাসাগরের এই দ্বীপপুঞ্জের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে মাত্র ৭৪ দিনের সেই রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে আর্জেন্টিনার ৬৪৯ জন এবং ব্রিটেনের ২৫৫ জন সামরিক বাহিনীর সদস্য নিহত হন। যুদ্ধে আর্জেন্টিনার পরাজয় দেশটির মানুষের মনে যে ক্ষত তৈরি করেছিল, ফুটবল মাঠকে তারা সেই ক্ষোভ ও প্রতিশোধের মঞ্চ হিসেবে বেছে নেয়।

ফকল্যান্ড যুদ্ধের মাত্র চার বছর পর, ১৯৮৬ সালের মেক্সিকো বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে মুখোমুখি হয়েছিল এই দুই দেশ। ম্যাচটি ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে আলোচিত ও বিতর্কিত ম্যাচে পরিণত হয় ডিয়েগো ম্যারাডোনার কল্যাণে। প্রথমে হাত দিয়ে গোল করে (যা ‘হ্যান্ড অব গড’ বা ঈশ্বরের হাত নামে পরিচিত) এবং তার ঠিক চার মিনিট পর মাঝমাঠ থেকে একাই ড্রিবলিং করে ইংলিশ ডিফেন্স চূর্ণ-বিচূর্ণ করে ‘শতাব্দীর সেরা গোল’টি করেন ম্যারাডোনা। আর্জেন্টিনাকে ২-১ ব্যবধানে জেতানোর পর ম্যারাডোনা নিজেই স্বীকার করেছিলেন, এই জয়টি ছিল ফকল্যান্ড যুদ্ধে নিহত আর্জেন্টাইনদের জন্য এক ধরনের ফুটবলীয় প্রতিশোধ।

সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হওয়ার সম্ভাবনা যত তীব্র হচ্ছে, আর্জেন্টাইন সমর্থকদের গানগুলোতে ইংলিশদের লক্ষ্য করে আক্রমণ তত বাড়ছে। বুয়েনস এইরেসের জাতীয় স্মৃতিস্তম্ভ ‘ওবেলিস্ক’-এ হাজার হাজার আর্জেন্টাইন সমর্থক সমবেত হয়ে গান ধরেন, ‘এখন তুমি দেখছ, যে লাফাবে না সে-ই একজন ইংরেজ!’ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভক্তদের আরেকটি গানে দাবি করা হয়, ইংল্যান্ড আর্জেন্টিনাকে ভয় পায় এবং লিওনেল স্ক্যালোনিদের সামনে পড়লে থ্রি লায়ন্সদের আবার ‘দৌড়াতে’ হবে।

বিশ্বকাপ ইতিহাসে ইংল্যান্ড-আর্জেন্টিনা দ্বৈরথ
সেমিফাইনালের এই হাই-ভোল্টেজ মহারণ সত্যি হতে হলে দুই দলকেই প্রথমে কোয়ার্টার ফাইনালের বাধা পার হতে হবে। টমাস টুখেলের ইংল্যান্ড মুখোমুখি হবে নরওয়ের, আর আর্জেন্টিনা লড়বে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে।

বিশ্বকাপের মঞ্চে এখন পর্যন্ত ৫ বার মুখোমুখি হয়েছে এই দুই পরাশক্তি। ১৯৬২ সালের প্রথম দেখায় এবং ১৯৬৬ সালে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পথে আর্জেন্টিনাকে হারিয়েছিল ইংল্যান্ড। ১৯৮৬ বিশ্বকাপে ম্যারাডোনার বিখ্যাত ‘হ্যান্ড অব গড’ এবং ‘শতাব্দীর সেরা গোল’-এর ওপর ভর করে ইংল্যান্ডকে হারিয়েছিল আর্জেন্টিনা, পরে তারা শিরোপাও জেতে।

১৯৯৮ সালের বিশ্বকাপে ডেভিড বেকহ্যাম লাল কার্ড দেখার পর টাইব্রেকারে হেরে বিদায় নেয় ইংল্যান্ড। তবে চার বছর পর (২০০২) গ্রুপ পর্বে বেকহ্যামের পেনাল্টি গোলেই ১-০ ব্যবধানে জিতে মধুর প্রতিশোধ নেয় ইংলিশরা। ২০০৫ সালের পর আন্তর্জাতিক ফুটবলে এই দুই দল আর কোনো ম্যাচে মুখোমুখি হয়নি।

আরো পড়ুন

সর্বশেষ

জনপ্রিয়

নামাজের সময়সূচি

ওয়াক্ত সময়সূচি
ফজর ৩:৪৯ - ৫:১১ ভোর
যোহর ১২:০৩ - ৪:৩৩ দুপুর
আছর ৪:৪৩ - ৬:৪৪ বিকেল
মাগরিব ৬:৪৯ - ৮:১২ সন্ধ্যা
এশা ৮:১৭ - ৩:৪৪ রাত

বৃহঃস্পতিবার ৯ জুলাই ২০২৬